logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সারাদেশে ০৬ জুন ২০২৬ ১১:১১ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

হানিট্র্যাপে ফেঁসে প্রাণ হারান চালক লোকমান, উদ্ধার লুণ্ঠিত গাড়ি: গ্রেপ্তার ৪

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০৬ জুন ২০২৬ ১১:১১ অপরাহ্ন সারাদেশে
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০৬ জুন ২০২৬ ১১:১১ অপরাহ্ন
হানিট্র্যাপে ফেঁসে প্রাণ হারান চালক লোকমান, উদ্ধার লুণ্ঠিত গাড়ি: গ্রেপ্তার ৪

ঢাকা প্রতিনিধি:

তুরাগ নদীতে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দি অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। এ ঘটনায় কথিত ‘হানিট্র্যাপ’ ও মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের লুণ্ঠিত প্রাইভেটকার উদ্ধার এবং একজন আসামির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে।


মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ মে  বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মো. লোকমান সরদার (৩৮) কুড়িলের বাসা থেকে ভাড়ায় প্রাইভেটকার চালানোর উদ্দেশ্যে বের হন। দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি বাড়ি ফিরে না আসায় তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।


পরবর্তীতে বরিশালের গৌরনদী থানা পুলিশ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিহতের ভাই বায়েজিদ সরদারকে জানায়, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা লোকমান সরদারকে হত্যা করেছে এবং তার মরদেহ তুরাগ নদীর দক্ষিণখান এলাকার ফায়দাবাদ রাজাবাড়ী ঘাটে প্লাস্টিকের বস্তার ভেতরে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেছে।


সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা যায়, নিহতের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। কাঁধ থেকে হাতের আঙুল পর্যন্ত চামড়া ছিল ছোলা, বাম হাত ও বাম পায়ের বিভিন্ন অংশ ভাঙা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে নির্মমভাবে নির্যাতনের পর হত্যা করে বস্তাবন্দি অবস্থায় নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।


এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ফারজানা আক্তার বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় ২ জুন ২০২৬ তারিখে পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।


মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই, ঢাকা মেট্রো (উত্তর) স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত শুরু করে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআইয়ের এসআই জাকারিয়া আলম।


তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, আসামি এস এম সালমানের কথিত স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মীম ওরফে আনিবা জারা নিহত লোকমান সরদারকে টঙ্গী পশ্চিম থানার পাখির বাজার এলাকার হোন্ডা রোডে ডেকে নেন। সেখানে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সালমান, আদিব ইসলাম (১৯), সবুজ মিয়াসহ আরও কয়েকজন মিলে তাকে মারধর করে এবং মুক্তিপণ হিসেবে ১০ হাজার টাকা আদায় করে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।


পিবিআইর ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তাকে গুরুতর জখম করে হাত-পা বেঁধে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-২৮-১৬৬৮) নিয়ে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যায়।


পরে পিবিআইয়ের একটি বিশেষ দল কক্সবাজার, ঢাকা ও গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে আদিব ইসলাম, এস এম সালমান, জান্নাতুল ফেরদৌস মীম (ওরফে আনিবা জারা) এবং সবুজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া গাজীপুরের গাছা থানা এলাকা থেকে নিহতের লুণ্ঠিত প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়। গাড়িটির ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর যাচাই করে মালিকানা নিশ্চিত করা হয়েছে।


পিবিআই সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামি এস এম সালমান নিজেকে জড়িয়ে বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি ঘটনায় জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছেন।


পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)-এর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “তুরাগ নদীতে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত ও হত্যার রহস্য উদঘাটনে আধুনিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং মাঠপর্যায়ের তদন্ত একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”


তিনি আরও বলেন, “মামলাটির তদন্ত এখনও চলমান। তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://www.channeljaintanews24.com/top-news/15869
Page of